শনিবার, ১৩ Jun ২০২৬, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন
লাইফস্টাইল ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : পুরো পৃথিবীতে ঘটে চলা সব খবরাখবরসহ যে কোনো তথ্য মুহূর্তেই হাতের মুঠোয় মিলে যায় প্রযুক্তির ছোঁয়ায়। তাই ঘরে কিংবা বাইরে হাতে থাকা মোবাইল, ট্যাব কিংবা ল্যাপটপ আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী।
ইট পাথরের এ বন্দি শহরের যান্ত্রিক জীবনে বিনোদনের জাদুর কাঠি তাই এসব ডিজিটাল বন্ধু। তবে সময়ের চাকা ঘুরিয়ে খানিকটা পেছনে তাকালেই এর ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।
যখন শৈশব কিংবা কৈশোর ছিল কাদামাটির মাঠে ফুটবল কিংবা ঘুড়ি উড়ানোর মতো বিষয়গুলোকে ঘিরে। তবে সময়ের আবর্তনে শৈশব আর কৈশোরের দিনগুলো ফিরে এলেও বিনোদনের কিংবা খেলার সঙ্গী হয়ে উঠেছে ডিজিটাল সব বন্ধু।
শিশুর কোমলমতি মনে খুব সহজেই হাস্যরস ভরপুর সব কার্টুন কিংবা গেমস শিশুকে করে তুলছে প্রযুক্তিতে আসক্ত। তাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা শিশু ট্যাব কিংবা মোবাইল ফোনে পার করে দিচ্ছে দিনের একটি বিশাল সময়। অন্যদিকে শিশুকে ব্যস্ত রাখতে খেলার সামগ্রীতেও যুক্ত হচ্ছে নানা ধরনের গেজেট। গান, কার্টুন, সিনেমা থেকে শুরু করে গেমের দুনিয়াতে আসক্ত হয়ে পড়ছে শিশুরা। অন্যদিকে শিশু মনের আবদার মিটাতে ও মা-বাবা শিশুর হাতে তুলে দিচ্ছে কম্পিউটার, মোবাইল কিংবা ট্যাব। আর এসব ডিজিটাল বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে কাটাতে শিশুকে খাওয়ানোর পর্বও সেরে নিচ্ছেন মায়েরা। অন্যদিকে এসব ডিজিটাল ডিভাইজের কারণে শিশুদের পড়তে হচ্ছে নানা ধরনের জটিলতার মধ্যে।
এসব ডিভাইজ ব্যবহারের ফলে ইন্টারনেটে যেমন অবাধে যে কোনো সাইটে শিশু যেতে পারছে তেমনি বয়ঃসন্ধিকালে অচেনা মানুষের সঙ্গেও গড়ে উঠছে বন্ধুত্ব। এতে করে শিশুর মনের ওপর যেমন প্রভাব পড়ছে তেমনি নানা ধরনের ঝুঁকির সম্ভাবনা তীব্র আকার ধারণ করছে।
অনেক শিশু নানাভাবে এসব সাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেটে আসক্ত হয়ে সাইবার ক্রাইমের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে নিজেদের অজান্তেই। তাই শিশুদের ইন্টারনেট থেকে শুরু করে মোবাইল অথবা যে কোনো ডিভাইস ব্যবহারে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। শিশু ইন্টারনেট ব্যবহারে কোন কোন ধরনের তথ্য শিখছে কিংবা কী ধরনের গান অথবা সিনেমা দেখছে এদিকেও সমানভাবে নজর দেয়া আবশ্যক।
এছাড়া শিশু যাতে ইন্টারনেট ব্যবহারে সুরক্ষিত সাইটগুলোতে এবং আপনার নির্ধারিত সাইটে যেতে পারে তার ব্যবস্থা করে নিতে পারেন। অন্যদিকে এসব বিষয় ছাড়াও শিশুর দীর্ঘ সময় মোবাইল, ট্যাব অথবা কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে শিশুর চোখ কিংবা মানসিক বৃদ্ধিতে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই শিশুকে এসব বিষয় থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখার চেষ্টা করুন।
শুরু থেকেই তার সঙ্গে সময় কাটাতে চেষ্টা করুন। শিশুর সঙ্গে বন্ধুর মতো সময় দিন। এতে করে আপনার শিশু যেমন পাবে একটি সুস্থ শৈশব তেমনি আপনিও আপনার শিশুকে নিয়ে থাকতে পারবেন নিশ্চিন্ত।
নগরকন্ঠ.কম/এআর